Below Header Banner Area
Above Article Banner Area

বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতায় যথাযােগ্য মর্যাদায় পালিত হলাে ‘গণহত্যা দিবস

কলকাতা, ২৫ মার্চ ২০১৯ খ্রিঃ, সােমবার:
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন গভীর ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে ‘গণহত্যা দিবস ২০১৯’ পালন করেছে। দিবসটি পালন
উপলক্ষে উপ-হাইকমিশন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আলােকচিত্র প্রদর্শন করার পাশিপাশি হত্যাকান্ডের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে।
‘গণহত্যা দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান বি এম জামাল হােসেন ও কাউন্সেলর (কলার) মনসুর আহমেদ। এরপর উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসানের সভাপতিত্বে আলােচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
সহায়ক সমিতির সদস্য সরদার আমজাদ আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক শুখরঞ্জন দাস ও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মােঃ মােফাকখারুল ইকবাল।
উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নির্মম গণহত্যার স্বীকৃতি খােদ পাকিস্তান
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানী সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয় ‘১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত একলাখের বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভােটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানী জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানী সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসমারিক লােকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের
প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। আলােচনায় জনাব দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে একটি শহরে এতাে লােক শহীদ হওয়ার ঘটনা বিরল যা পৃথিবীর কোথাও হয়নি। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ২ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। তবে সেটি ছিল ৬ বছরের যুদ্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতবর্ষের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম সকল মানুষের নিঃস্বার্থ সাহায্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শুখরঞ্জন দাস বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম থেকে হেলিকপ্টার যােগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরও তিনি ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হােটেলে এক বিধবার করুন কাহিনীর কথা বলেন। ঐ মহিলাটি ছিল ঘাতক
নিমূল কমিটির সদস্য শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। গত সপ্তাহে দেশ পত্রিকায় বর্ণিত ৭ই মার্চের ঘটনা উল্লেখ করেন। শেষে তিনি এই দিবসটি জাতিসংঘের গ্রহণ করার জন্য অনুরােধ করেন। সরদার আমজাদ আলী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এর মধ্য দিয়ে গণহত্যা ও যুদ্ধের পার্থক্য তুলে ধরেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কিভাবে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় তা বক্তৃতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম সহায়ক
সমিতির প্রতিষ্ঠাতা অজয় চক্রবর্তীর সম্পর্কে বলেন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথাও বর্ণনা করেন।
মােঃ মােফাকখারুল ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির ন্যায্য অধিকার স্তব্ধ করে পশ্চিম পাকিস্তানে
অবস্থানরত হানাদার সরকার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে পৈশাচিক গণহত্যা চালায় তা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতির জনক অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তাঁর সর্বশেষ বাণী বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছিলেন যা ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পড়ে শােনানাে হয় বলেই ২৬ মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ধরা হয়। সবশেষে জহীর রায়হানের “Stop Genocide’ প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখে সাধারণ জনগণ আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন। এরপর কলকাতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ণরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি নাটিকা পরিবেশন
হয়।

Below Article Banner Area

About Desk

Check Also

JIS Group organizes free of cost vaccination drive for everyone

JIS Group’s free-of-cost onsite vaccination drive has started today at Narula Institute of Technology campus …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bottom Banner Area