Below Header Banner Area
Above Article Banner Area

এখন ডিগনিটি মার্চ কলকাতায়

# পাচার হওয়া নির্যাতিতাদের থেকে যৌনসেবা ক্রয় করা অপরাধীদের 100% দণ্ডাদেশের দাবিতে-

# গ্রাহকদের মনে ভীতি জন্মানো এবং বলপূর্বক শিশু পতিতাবৃত্তিতে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া নিবারণে দণ্ডাজ্ঞা

# লজ্জাজনক সংস্কৃতি শেষ করতে এবং মহিলা ও শিশু নির্যাতিতাদের জন্য এক সহায়কমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে

# ভারতীয় নাগরিকদের 7822001155-এ একটি মিসড্ কলের মাধ্যমে সমর্থন অঙ্গীকার করাতে

কলকাতা, 18 ই জানুয়ারী 2019: যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে 100% দণ্ডাদেশ হার অর্জনের এক যৌথ প্রচেষ্টার কারণে, ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার নির্যাতিতাদের দ্বারা গঠিত, দি ডিগনিটি মার্চ মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্নাটক, কেরালা, পণ্ডিচেরী, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ওড়িশার মধ্য দিয়ে পদযাত্রা করে আজ কলকাতায় এসে পৌঁছিয়েছে। কলকাতায় তাদের পৌঁছানোর সাথে, এই দশ হাজার-কিলোমিটার পদযাত্রা শক্তি লাভ করেছে কারণ হাজারো হাজারো অংশগ্রহণকারীগণ নির্যাতিতাদের মধ্যে এই লজ্জা এবং ভীতির সংস্কৃতি শেষ করা এবং পরিবর্তে অপরাধীদের মধ্যে কঠোর শাস্তির ভীতি পাওয়ানোর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন।
দুর্ভাবনার কারণ হল যে সাম্প্রতিকতম জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো 2016 অনুযায়ী, ভারতে পাচার হওয়া 15,379 জন নির্যাতিতাদের মধ্যে 58.7% হল শিশু। এইসব শিশুদের বেশীরভাগকেই যৌন-কার্যের জন্য (অথবা বাণিজ্যিক যৌন শোষণ) পাচার করা হয়েছে। এই রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের শিশু এবং মহিলাদের গুরুতর পরিস্থিতির বিষয়টিও দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বিরুদ্ধে 2012 সালে 1706 টি সঙ্ঘটিত অপরাধ আশ্চর্যজনকভাবে 311% বৃদ্ধি পেয়ে 2016 সালে 7004 টি হয়েছে, অপরপক্ষে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ 5% বৃদ্ধি পেয়ে 2012 সালের 30,942 টি থেকে 2016 সালে 32,513 টি সঙ্ঘটিত হয়েছে:

2016 সালে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের শতকরা হারের ঘটনার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ 2য় স্থান দখল করেছে
রাজ্যে 95.1% বকেয়া মামলা সহ শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডাদেশ প্রদানের হতাশজনক হার হল 10.2%
রাজ্যে 96.3% বকেয়া মামলা সহ মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডাদেশ প্রদানের হার হল 3.3%

কলকাতায় পৌঁছানোর পরে ডিগনিটি মার্চ পশ্চিমবঙ্গে এবং ভারতে যৌন সহিংসতা এবং শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সম্পর্কিত পরিস্থিতি আলোচনা করার জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। ঐ অনুষ্ঠানে আশিফ শেখ, আহ্বায়ক, রাষ্ট্রীয় গরিমা অভিযান, ডিগনিটি মার্চ, ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার নির্যাতিতাদের সাথে এই বিষয়গুলির রিপোর্ট করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং এই উদ্দেশ্যের আরো অগ্রগতির বিষয়ে দৃষ্টিগোচর করেছিলেন।

আশিফ শেখ বললেন, “আমাদের যৌন অপরাধে নির্যাতিতাদের সমর্থন দেবার প্রয়োজন আছে, বিশেষকরে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ক্ষেত্রে শিশুদের, কারণ অপ্রাপ্তবয়স্করা সহায়সম্বলহীন হয়ে থাকে এবং তাদের নিজ পরিবার ও সমাজের থেকে অবিরাম সমর্থন পাওয়ার প্রয়োজন আছে। অতীতে, আমাদের সরকার এবং আইন এই সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য এক প্রতিক্রিয়ামূলক পন্থা নিয়েছিল, কিন্তু এখন সময় এসেছে এক বলিষ্ঠ সক্রিয়শীল পদক্ষেপ নেওয়ার যাতে যেসব “গ্রাহকরা” শিশুদের থেকে যৌনতা্ ক্রয় করছেন তাদের মধ্যে এক ভীতির সৃষ্টি করা যায়। এবং 100% দণ্ডাদেশ প্রদান হল একমাত্র সমাধান যা অপরাধীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করবে এবং ফলস্বরূপ, এই ভয়াবহ বিপদের সমাপ্তি ঘটবে।
ডিগনিটি মার্চ নির্যাতিতদের প্রতি অসম্মানের সমাপ্তির এবং কুকর্মকারীদের মর্যাদাহানির এবং অপরাধীদের মনে ভীতি জন্মানোর আহ্বানও জানাচ্ছে যাতে তাদের অপরাধের অবশ্যই শাস্তি হয়। যদিও অনেক সংস্থা নির্যাতিতাদের উদ্ধার এবং সহায়তার উপরে কাজ করছে, এইসব জঘন্য অপরাধ নিবারণে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজন আছে। দণ্ডাদেশের হার আরো বেশী হলে তা এক প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করবে এবং তাই এইসব কুকর্ম সংঘটনকারীদের বিরুদ্ধে আইন বলব ৎকারীদের আরো কঠোর কার্যপ্রক্রিয়ার প্রয়োজন আছে, যেহেতু শিশু এবং তাদের পিতামাতারা বিষয়গুলির কোন রিপোর্ট করেন না, তাই কোন আইনি কার্যের অনুপস্থিতিতে, এই কুকর্মকারীরা তাদের জঘন্য আচরণ করে যাওয়ায় উ ৎসাহ পেয়ে থাকে।”

অনিতা (নাম পরিবর্তিত), CSEC-এর নির্যাতিতা, তার সংগ্রামের কথা বিবৃত করলেন, “যদিও সমাজে ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ অথবা সমষ্টিবদ্ধভাবে ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু শিশু পতিতাবৃত্তি হল শিশুদের ধারাবাহিক ধর্ষণের সমান। আমি প্রায় 2 বছর ধরে প্রতিদিন এই কষ্টভোগ করেছিলাম কারণ কিছু লোকেরা 300-400 টাকা দিয়ে আমার শরীর নিয়ে অসম্মান করার অধিকার কেনার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমি চাই এইসব দানবদের গ্রেপ্তার করা হোক এবং গরাদের পেছনে রাখা হোক।”

সম্প্রতি ভারতীয় সংসদ দ্বারা শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষিত করার (POCSO) জন্য এক সংশোধনী আইন পাস করার সাথে সাথে, এই সমস্ত শিশু এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অপরাধীদের ধরে তাদের এই জঘন্য কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গরিমা অভিযান পরিচালিত এক জাতীয় অনলাইন সমীক্ষার মধ্যে ডিগনিটি মার্চ প্রোথিত রয়েছে। ‘স্পীক আউট!’ সমীক্ষা মহিলা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার প্রবলতা নির্ধারণে এবং নির্যাতিতাদের আওয়াজ কানে ব্যক্ত করার জন্য পরিচালিত হয়েছিল। এই সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে যে এক বিপদ্জনক সংখ্যায় ব্যক্তিরা যৌন অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু মহিলা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অত্যাচারের 95% ঘটনা রিপোর্ট করা হয় নি, এবং ‘নির্যাতিতা’-কে কলঙ্কিত করা হয়েছে এবং সমাজ দ্বারা সবসময় কালিমালিপ্ত হবার আশঙ্কায় ভীত থাকতে হয়েছে। বিশেষকরে, শিশুদের ক্ষেত্রে, বেশীরভাগ অপরাধগুলি অলক্ষ্যে থেকে গেছে এবং তুচ্ছ দণ্ডাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে যার কারণে অপরাধীরা শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে গেছে। এই সমীক্ষা এটিও প্রকাশ করেছে যে মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলির বিষয়ে সরকারী তথ্য কম কার্যকর বলে বিবেচিত হয়েছে কারণ মাত্র 2% ঘটনা পুলিসের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গরিমা অভিযান দ্বারা, এবং অনেক একই-মনোভাবাপন্ন সংস্থার সহযোগিতায় ডিগনিটি মার্চ সৃষ্ট হয়েছে এবং শুরু হয়েছে, যা হল পঁয়ষট্টি-দিনের একটি জাতীয় পদযাত্রা যাতে নির্যাতিতাদের সাথে তাদের পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সারা ভারতে 24 টি রাজ্যে 200 টি জেলাব্যাপী 10,000 কিমি পথ পদযাত্রা করতে দেখা যাচ্ছে। ডিগনিটি মার্চ 20 শে ডিসেম্বর 2018-এ মুম্বাই থেকে 5000 জনের বেশী নির্যাতিতা এবং তাদের পরিবারের সদস্য এবং সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছিল। 22 শে ফেব্রুয়ারী 2019-এ দিল্লীতে এটির পরিসমাপ্তি ঘটবে। এই পদযাত্রার বিষয়ে আরো জানতে, অনুগ্রহ করে দেখুন https://dignitymarch.org/

Below Article Banner Area

About Desk

Check Also

JIS Group organizes free of cost vaccination drive for everyone

JIS Group’s free-of-cost onsite vaccination drive has started today at Narula Institute of Technology campus …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bottom Banner Area