Below Header Banner Area
Above Article Banner Area

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতায় আলােচনা সভা

কলকাতা, ০৭ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার:
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এ মিশনের সম্মেলন কক্ষে এক। আলােচনা সভার আয়ােজন করে।
অনুষ্ঠানে আলােচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মােঃ মােফাকখারুল ইকবাল,
কাউন্সেলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ, কাউন্সেলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ শফিউল ইমাম এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী। সভাপতির বক্তব্যে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বাঙালি জাতিকে সংঘবদ্ধ হতে। সহায়তা করেছিল, ৭ মার্চে রেসকোর্স থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘােষণা না আসলে হয়তাে এতাে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিরােধ ও জেগে ওঠার মানসিকতা গড়ে উঠতাে না। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণমানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সেই মহাকাব্য। ৭ই মার্চের ১৯ মিনিটের সুমধুর ভাষণটি বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি আরাে বলেন, ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘মেমােরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্ত করে। এটি নিঃসন্দেহে সমগ্র বাঙালির জন্য একটি
গর্বের বিষয়, অহংকারের বিষয়। প্রথম সচিব (প্রেস) মােঃ মােফাকখারুল ইকবাল ৭ই মার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রেখে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিভাবে দেশ স্বাধীন করতে হবে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে এ পথ বাতলে দিয়েছিলেন।


বাঙালি জাতির মুক্তির পথ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অনন্তকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে। এ ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, সংগ্রামের চেতনা, আত্মত্যাগের প্রেরণা। তিনি আরাে বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ভাষণ পর্যবেক্ষণ করে ইউনেস্কো তাদের ‘মেমােরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ কর্মসূচীর আওতায় ২০১৭ সালের ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর। প্যারিসে দ্বিবার্ষিক বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারী হেরেটিজ’ ‘মেমােরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার এ অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সুপারিশ করে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বােকোভা এ সুপারিশ সম্মতি দিয়ে ১৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেয়ার দুইদিন পরই ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ৪২৭তম প্রামাণ্য দলিল হিসেবে মেমােরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে কাউন্সেলর (কনস্যুলার) মনসুর আহমেদ তার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্সে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি যে কোন বিচারেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাে বটেই বিংশ শতাব্দীতে সারা বিশ্বে যতগুলাে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়া হয়েছে তার অন্যতম ও ব্যতিক্রম। ১৯ মিনিটের এই ভাষণে একটি দেশের ইতিহাস জনগণের প্রত্যাশা ও তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রতারণা, তাদের ত্যাগ আগামী দিনের জন্য দিক নির্দেশনা সবই উঠে এসেছে। এ ছাড়া তিনি ভাষণটি
এমনভাবে দিয়েছিলেন যাতে তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদি নেতা হিসেবে অভিযুক্ত না করা যায়, আবার একটি সঙ্গে তিনি বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার কথাটি বলতে পারেন। আলােচনায় এ উপ-হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শিক্ষা ও ক্রীড়া) শেখ শফিউল ইমাম বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চের ভাষণের আগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধুকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন সে গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কঠিন সময়ে। সবকিছু বিবেচনা করে যা বলার দরকার ছিল তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৭ই মার্চের ভাষনে বলেছিলেন।

অনুষ্ঠানের মূল আলােচক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, এই মার্চের ভাষণের
সূচনাটি হয়েছিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই। কলকাতা শহরে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের সমর্থনে প্রথম
সভা হয়। সেই সভায় মােহাম্মদ রিয়াজ, ইলামিত্রসহ বিশিষ্ট গুণি ব্যক্তিগণ বক্তৃতা করেন। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, ১৯o৯ সালে। ভারতের আন্দামানে সেলুলার জেলে মােট বন্দী ছিল ৫৯৬ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল ৪০৬ জন। এখান থেকেই স্বাধীনতার মতপাত হয়েছিল। আলােচনার শুরুতে এ উপ-হাইকমিশনের দুইজন কর্মকর্তা যথাক্রমে মহামান্য পতিৰা ৰা। এবং মাননীয় প্রধানমীবাণী পাঠ করে শােনান। এরপর বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

Below Article Banner Area

About Desk

Check Also

JIS Group organizes free of cost vaccination drive for everyone

JIS Group’s free-of-cost onsite vaccination drive has started today at Narula Institute of Technology campus …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bottom Banner Area